টাংস্টেনের বৈশিষ্ট্য
| পারমাণবিক সংখ্যা | 74 |
| CAS নম্বর | ৭৪৪০-৩৩-৭ |
| পারমাণবিক ভর | ১৮৩.৮৪ |
| গলনাঙ্ক | ৩ ৪২০ °সে |
| স্ফুটনাঙ্ক | ৫ ৯০০ °C |
| পারমাণবিক আয়তন | ০.০১৫৯ ন্যানোমিটার3 |
| ২০ °C তাপমাত্রায় ঘনত্ব | ১৯.৩০ গ্রাম/সেমি³ |
| স্ফটিক কাঠামো | দেহ-কেন্দ্রিক ঘনক্ষেত্র |
| ল্যাটিস ধ্রুবক | ০.৩১৬৫ [এনএম] |
| ভূত্বকে প্রাচুর্য | ১.২৫ [গ্রাম/টন] |
| শব্দের গতি | ৪৬২০ মি/সে (সাধারণ তাপমাত্রায়) (পাতলা দণ্ড) |
| তাপীয় প্রসারণ | ৪.৫ µm/(m·K) (২৫ °C তাপমাত্রায়) |
| তাপ পরিবাহিতা | ১৭৩ ওয়াট/(মিটার·কেলভিন) |
| বৈদ্যুতিক রোধ | ৫২.৮ ন্যানোওম·মিটার (২০ °সে তাপমাত্রায়) |
| মোহস কাঠিন্য | ৭.৫ |
| ভিকার্স কাঠিন্য | ৩৪৩০-৪৬০০ মেগাপ্যাসকেল |
| ব্রিনেল কাঠিন্য | ২০০০-৪০০০ মেগাপ্যাসকেল |
টাংস্টেন, বা উলফ্রাম, হলো একটি রাসায়নিক মৌল যার প্রতীক W এবং পারমাণবিক সংখ্যা ৭৪। টাংস্টেন নামটি এসেছে টাংস্টেট খনিজ শিলাইটের প্রাক্তন সুইডিশ নাম ‘টাং স্টেন’ বা ‘ভারী পাথর’ থেকে। টাংস্টেন একটি দুর্লভ ধাতু যা পৃথিবীতে প্রাকৃতিকভাবে একা না থেকে প্রায় একচেটিয়াভাবে অন্যান্য মৌলের সাথে রাসায়নিক যৌগে মিলিত অবস্থায় পাওয়া যায়। ১৭৮১ সালে এটিকে একটি নতুন মৌল হিসেবে শনাক্ত করা হয় এবং ১৭৮৩ সালে প্রথম ধাতু হিসেবে পৃথক করা হয়। এর গুরুত্বপূর্ণ আকরিকগুলোর মধ্যে উলফ্রামাইট এবং শিলাইট অন্যতম।
মুক্ত মৌলটি তার দৃঢ়তার জন্য উল্লেখযোগ্য, বিশেষ করে এই কারণে যে আবিষ্কৃত সমস্ত মৌলের মধ্যে এর গলনাঙ্ক সর্বোচ্চ, যা ৩৪২২ °C (৬১৯২ °F, ৩৬৯৫ K) তাপমাত্রায় গলে যায়। এর স্ফুটনাঙ্কও সর্বোচ্চ, ৫৯৩০ °C (১০৭০৬ °F, ৬২০৩ K)। এর ঘনত্ব পানির চেয়ে ১৯.৩ গুণ, যা ইউরেনিয়াম ও সোনার ঘনত্বের সমতুল্য এবং সীসার ঘনত্বের চেয়ে অনেক বেশি (প্রায় ১.৭ গুণ)। পলিক্রিস্টালাইন টাংস্টেন (সাধারণ অবস্থায়, যখন অসংযুক্ত থাকে) স্বভাবগতভাবেই একটি ভঙ্গুর ও কঠিন পদার্থ, যার ফলে এটি নিয়ে কাজ করা কঠিন। তবে, বিশুদ্ধ একক-স্ফটিক টাংস্টেন অধিক নমনীয় এবং শক্ত ইস্পাতের হ্যাকস দিয়ে কাটা যায়।

টাংস্টেনের বিভিন্ন সংকর ধাতুর বহুবিধ প্রয়োগ রয়েছে, যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো—ভাঁজকাটা বাতির ফিলামেন্ট, এক্স-রে টিউব (ফিলামেন্ট ও টার্গেট উভয় হিসেবে), গ্যাস টাংস্টেন আর্ক ওয়েল্ডিং-এর ইলেকট্রোড, সুপারঅ্যালয় এবং তেজস্ক্রিয়তা প্রতিরোধক আবরণ। টাংস্টেনের কাঠিন্য ও উচ্চ ঘনত্বের কারণে এটি ভেদনকারী প্রক্ষেপক তৈরিতে সামরিক ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়। টাংস্টেন যৌগসমূহ প্রায়শই শিল্পক্ষেত্রে অনুঘটক হিসেবেও ব্যবহৃত হয়।
টাংস্টেন হলো তৃতীয় অবস্থান্তর সিরিজের একমাত্র ধাতু যা কিছু প্রজাতির ব্যাকটেরিয়া এবং আর্কিয়াতে প্রাপ্ত জৈব অণুতে পাওয়া যায়। এটি যেকোনো জীবন্ত প্রাণীর জন্য অপরিহার্য বলে পরিচিত সবচেয়ে ভারী মৌল। তবে, টাংস্টেন মলিবডেনাম এবং তামার বিপাকে বাধা সৃষ্টি করে এবং পরিচিত প্রাণিজগতের জন্য কিছুটা বিষাক্ত।